HTMLy

Just another HTMLy blog

আচ্ছা, বউ রাঁধবে না—তাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব স্বামীর।

- Posted in islamic by

আচ্ছা, বউ রাঁধবে না—তাকে খাওয়ানোর দায়িত্ব স্বামীর। ছেলেপুলে পালবে না, দুধও খাওয়াবে না দুগ্ধভাতা না দিলে—কারণ ওই দায়িত্বও তার নয়। শ্বশুর-শাশুড়ির খেদমত সে আলবৎ করবে না—কারণ ওই মা-বাবা তো তার না।

তাহলে স্বামী বেচারা তাকে বিয়ে কেন করবে—শুধু বিছানার জন্য? যৌনতার অধিকার তো বিয়ের মাধ্যমে দুজনেই পায়, তাহলে স্বামী কেন একা হ্যাপা নেবে? পিতৃত্বের কথা বলবেন না। বিয়ের আগে কোনও পুরুষের পিতৃত্বের বোধ বা চাহিদা কিছুই তৈরি হয় কখনও? বংশধারা তো পরের কথা।

‘কিতাবুল বুয়ু’ (লেনদেন সংক্রান্ত অধ্যায়) পড়ানোর সময় আমিনি সাহেব হুজুর বলছিলেন— আল্লাহ তায়ালা কোথাও উপার্জন করতে আদেশ করেন নি, অথচ বিধান বলেছেন, হারাম থেকে বারণ করেছেন, সুদ নেওয়াকে বলেছেন তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধ। কেন আয় করতে বলেন নি, কারণ, ইট’স ভেরি ন্যাচারাল। স্বভাবতঃ মানুষ আয়-ইনকামে নামবেই। যে-পেটপালনের ক্ষুধা এবং শরীর ঢাকার প্রয়োজন তাকে দিয়েছেন, তা-ই তাকে মাঠে টেনে নেবে।

তেমনি—বিয়ের পর নরনারীর ভিন্ন ভিন্ন দায়িত্ব, এটা খুবই প্রাকৃতিক। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানব সমাজ এখানে ভুল করে নি। স্ত্রী যদি বলে রান্না করবে না, সমাজ যেমন তা মেনে নেয় না, স্ত্রীর অসুখ হলে স্বামী যদি বলে ডাক্তার দেখাবো না—তাহলে সমাজ কি ওই ছেলেকে আস্ত রাখবে? অথচ ‘আইন’ দেখালে এই দুটি বিষয় দুজনের দায়িত্বে পড়ে না।

একইভাবে সন্তান টানও কেউ এড়াতে পারে না। দিনমান প্রতিপালনের যন্ত্রণা যেমন যেমন মায়ের থাকে, তেমনি তাদের সবাইকে নিরাপদে রাখা, সফরে-শহরে পুরো পরিবারকে সর্বোচ্চ ভালো রাখার আকাঙ্ক্ষা কোনও বাবা ইগনোর করতে পারে না।

শ্বশুরালয়ের সেবার কথা না-বলাই ভালো—এ-যুগে ক’জন-বা করে সেটা। বিয়ের দুদিনের মাথায় নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি গড়ে শহরে আবাস পাতে। বছরে দু-চারবার গিয়ে যদি দুটো ভাত রান্না করে খাওয়াতে বউর বাঁধে, তাহলে বলি—ওই বউর কি কোনও ভাই নেই, সে বিয়ে করে তার বাবার বাড়িতে বউ নিয়ে ওঠে নি, সেই বউ তার বাবামাকেও তেমনই করবে আর কি।

এই প্রাকৃতিক ‘বিধান’কে আপনি ভালোবাসা দিয়েও ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। বহু দম্পতি আছে, যারা জীবনভর ভালোবেসেছে অন্য কাউকে, কিন্তু দাম্পত্য জীবনে কখনও ফাঁকি দেয় নি—একে অপরকে আইনি অজুহাতে অবহেলাও করে নি।

আজকাল নব্য মাদরাসা শিক্ষিত কতিপয় ইসলামি নারীবাদী দুদিন পর পর এসব নিয়ে খোঁচায়। নিজেদের সংসার তো এরা জাহন্নাম বানায়ই, অন্যের সুখও এদের সহ্য হয় না। মেয়েরা স্বামী চিনতে ভুল না করলেও বান্ধবী বাছাইয়ে ভুল করে বেশি—এরাই তাদের খায়।

© শায়খ মনযুরুল হক