আশেপাশে আমরা এমন অনেক মানুষ আছি, যারা বুক ফুলিয়ে বলি, "আমি উচিৎ কথা বলতে কাউকে ছাড়ি না!" "আমি উচিৎ কথা মুখের উপর বলে দেই"
হ্যা, আমি আপনি অনেক স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড! যা মনে আসে তাই বলি! গালাগাল সহ সরাসরি মুখের উপর সব বলে দেই! সব মহলে ঠোটকাটা স্বভাবের হিসেবে পরিচিত আমরা!
সবাইকে একদম সামনেই ধুয়ে দেই এবং এটা নিয়ে আপনার আমার বেশ গর্বও! প্রিয় ভাইয়েরা, ইসলাম ধর্মে এটাকেই "লুমাযাহ" বলা হয় ।
যে ব্যক্তি: ★ সরাসরি কাউকে লাঞ্চিত ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে। ★ কাউকে তাচ্ছিল্য ভরে কোনকিছু নির্দেশ করে (আঙুল,চোখ, মাথা বা ভ্রু দ্বারা) ★ কারও অবস্থান বা পদবি নিয়ে তাকে ব্যাঙ্গ করে। ★ কারো বংশের নিন্দা করে বা বংশ নিয়ে কথা বলে। ★ কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করে কথা বলে, অপমান করে। ★ কারও মুখের উপর তার সম্পর্কে বিরুপ মন্তব্য করে। ★ সরাসরি বাজে কথা দিয়ে কাউকে আঘাত করে। ★ কাউকে এমন কোনো কথা বললো যাতে আরেকজন কষ্ট পাবে। ★ অসন্মান করে কথা বললো।
উপরোক্ত ব্যাক্তিরাই মূলতঃ "লুমাযাহ" এর অন্তর্ভুক্ত।
আল্লাহ্ তায়ালা এই মানুষদেরকে পরিবর্তন হতে বলেছেন। নয়তো তাদের জন্য অনিবার্য ধ্বংসের সতর্ক বাণী দিয়েছেন। আল্লাহ তাদের প্রতি কঠোর লানতও করেছেন।
আল্লাহ্ কোরআনে বলেন, وَيْلٌ لِكُلِّ هُمَزَةٍ لُمَزَةٍ বাংলা উচ্চারণ, ওয়াই লুল্লি কুল্লি হুমাজাতিল লুমাযাহ। অর্থ, প্রত্যেক পশ্চাতে ও সম্মুখে পরনিন্দাকারীর দুর্ভোগ। রেফারেন্স - সূরাতুল হুমাযাহ, আয়াত ১।
আল্লাহ্র নবী, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, "যার মধ্যে নম্রতা নেই, সে সকল কল্যাণ থেকে বঞ্চিত"।
আমাদের লুমাযাহ নিয়ে ভাবা উচিৎ ভাই। আসুন, আমরা একটু নরম হই, একটু সহনশীল হই, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি।
মনে রাখি- আল্লাহ যাকে নম্রতা দিয়েছেন, তিনি দুনিয়ার সেরা নেয়ামত পেয়ে গেছেন। আল্লাহ সবাইকে হেদায়েত দান করুন। আমীন।
- সংগৃহীত ও ঈষৎ সম্পাদিত।
