ফেসবুকে মায়ের পিক আপলোড দেয়ার সময় ক্যাপশনে অবশ্যই লিখবেনঃ
১. আলহামদুলিল্লাহ মায়ের গুনাহের কারণ হলাম। ২. মাকে জাহান্নামে পাঠানোর ব্যবস্থা করলাম। ৩. মায়ের জন্য জাহান্নামের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করলাম। ৪. মা, তুমি এতোদিন পর্দা করে চলেছো। নিজেকে হেফাজতে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছো। কিন্তু দেখো, আমি তোমাকে সবার সামনে উন্মুক্ত করে দিলাম।
এসব ক্যাপশন দেখে খুব নোংরা লাগলো তাই না? খুব কষ্ট লাগতেছে। অথচ নিজের মাকে জাহান্নামের আগুনের দিকে ঠেলে দিতে আপনাদের কষ্ট লাগে না।
আজ তো খুব নাটকীয় ভাবে মাকে উপস্থাপন করছেন। খুব গর্ব করে বলছেন যে এই মা আপনার জন্য কতো কষ্ট করেছে। নিজে না খেয়ে কিভাবে আপনাকে খাইয়ে পরিয়ে মানুষ করেছে। কিভাবে আগুনের তাপ সহ্য করে আপনার জন্য রান্না করেছে। ঘটনা হচ্ছে, এসব লেখার পর যে আপনার মায়ের একটা ছবি ফেসবুকে শেয়ার করেছেন সেটাতে আপনার মাকে আপনি চিরস্থায়ী আগুনের দিকে ঠেলে দিয়েছেন।
অনেকের মা আছেন, যিনি নিজেকে সর্বদা পর্দায় আবৃত রাখেন। তার সে মা হয়তো জানেও না যে তার ছেলে তার এতোদিনের পর্দাবৃত চেহারাকে এক মূহুর্তে হাজার হাজার পরপুরুষের সামনে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। তার আদরের দুলাল তাকে জাহান্নামের দিকে আরও একধাপ এগিয়ে দিয়েছে।
আজ যারা মা মা করে মুখে ফেনা তুলে ফেলতেছেন। মায়ের ছবি দিয়ে ভালবাসার প্রমাণ দিতে চাইছেন। তাদেরকে প্রশ্ন করতে চাই,
নিজের মায়ের জন্য আল্লাহর কাছে কতোবার দোয়া করেছেন? মায়ের জন্য মোনাজাতে কতোবার অশ্রু ঝরিয়েছেন? মায়ের দিকে কতোবার নেক নজরে তাকিয়েছেন?
খোঁজ নিয়ে দেখুন, এরাই হয়তো কথায় কথায় মাকে ধমক দেয়। মাসে একটা বারও হয়তো ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করে না মা তুমি কেমন আছো। অথচ আজ তাদের ভালবাসা উপচে উপচে পড়ছে।
মাকে যদি এতোই ভালবাসেন তাহলে মায়ের জন্য দোয়া করুন। রবের কাছে কেঁদে কেঁদে মায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। মায়ের নেক হায়াত চেয়ে দোয়া করুন। রবের দরবারে ফরিয়াদ করুন, ইয়া রব! আমার মাকে জাহান্নাম থেকে নাজাত দিন এবং জান্নাতের মেহমান বানিয়ে নিন।
মায়ের জন্য ভালবাসা একদিনের না হোক। আমাদের প্রতিটি মোনাজাতে জায়গা পাক সে। নিজের জন্য দোয়া করার আগে যেনো তার জন্য দোয়া করতে পারি এই হোক আমাদের চাওয়া। আমাদের মায়ের প্রতি ভালবাসার প্রকাশ পাক প্রতিটি মোনাজাতে। আমীন।
© সানজিদা সিরাজ আখি
