HTMLy

Just another HTMLy blog

দুঃখশোকের কুরআনি পথ্য তীব্র শোক,

- Posted in islamic by

দুঃখশোকের কুরআনি পথ্য তীব্র শোক, গভীর বিষন্নতায় মনটা সারাক্ষণ আচ্ছন্ন থাকে? অসহনীয় মর্মপীড়া আর দুঃসহ মর্মযাতনায় ভুগছি? দুরারোগ্য মনখারাপলাগা অহর্নিশি কুরে কুরে খাচ্ছে? কুরআন কারীমে এর অব্যর্থ উপশম আছে। বিষন্নতা রোগ দূরীকরণে এই কৌশলের অবিশ্বাস্য কার্যকারিতা। ১ঃ ইসনাদ-ইরজা (الإسناد والإرجاع) পদ্ধতি। আল্লাহর কাছে আশ্রয় নেয়া। আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া। ٱلَّذِینَ إِذَاۤ أَصَـٰبَتۡهُم مُّصِیبَةࣱ قَالُوۤا۟ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّاۤ إِلَیۡهِ رَ ٰ⁠جِعُونَ এরা হল সেসব লোক, যারা তাদের কোন মুসিবত দেখা দিলে বলে ওঠে, ‘আমরা সকলেই আল্লাহরই এবং আমাদেরকে তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে’ (বাকারা: ১৫৬)। ২ঃ মনপ্রাণ উজাড় করে শোকের বহিঃপ্রকাশ। মনে যত দুঃখ, বেদনা, যাতনা, শোকসন্তাপ, মর্মপীড়া, মর্মযাতনা আছে সব উগরে দিতে হবে। মনের অর্গল খুলে গড়গড় করে সব উদোম করে দিতে হবে। সামান্যতম কষ্টও মনে পুষে রাখা যাবে না। কোনও ধরণের মনোবেদনা অবদমন করে রাখা চলবে না। إِنَّمَاۤ أَشۡكُوا۟ بَثِّی وَحُزۡنِیۤ إِلَى ٱللَّهِ আমি আমার দুঃখ ও বেদনার অভিযোগ (তোমাদের কাছে নয়) কেবল আল্লাহরই কাছে করছি (ইউসুফ: ৮৬)। বসীরাহ-ইবরাহঃ ইয়াকুব আ. পুত্রশোকে জর্জর। সীমাহীন কাতর। তিনি কষ্টটা বুকে পুষে রাখেননি। সব আল্লাহর কাছে খুলে বলেছেন। অভিযোগের ভঙ্গিতেই বলেছেন। যত দুঃখ আর কষ্ট, একটুও পুষে রাখব না। দরজা বন্ধ করে, বাতি নিভিয়ে হাউমাউ করে কেঁদে সব-সবই আল্লাহর কাছে বলে রাখব। ইয়াকুব আ. নিজের শোক লুকিয়ে রাখেননি। ভেতরে পুষে রাখেননি। আল্লাহকে বলে দিয়েছেন। নিজের কষ্টের কথা আল্লাহর কাছে বলা, নবীগনের সুন্নাহ। ৩ঃ কর্মগত প্রচেষ্টা (التطبيق العملي)। দুঃখশোক দুর করার কর্মগত প্রয়াস হবে দুইভাবে وَلَقَدۡ نَعۡلَمُ أَنَّكَ یَضِیقُ صَدۡرُكَ بِمَا یَقُولُونَ (হে নবি!)নিশ্চয়ই আমি জানি তারা যে সব কথা বলে তাতে আপনার অন্তর সঙ্কুচিত হয়। فَسَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّكَ وَكُن مِّنَ ٱلسَّـٰجِدِینَ (তার প্রতিকার এই যে,) তুমি তোমার প্রতিপালকের প্রশংসার সাথে তার তাসবীহ পাঠ করতে থাক এবং সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত থাক (হিজর: ৯৭-৯৮)। ক. প্রথম কর্মগত প্রয়াস হবে ‘তাসবীহ’ পাঠের মাধ্যমে। বুঝে বুঝে সুবহানাল্লাহ বলব। তিনি সবধরনের অসম্পূর্ণতা থেকে পবিত্র। তিনি সবধরনের শরীক থেকে মুক্ত। এটা মনে রেখেই ‘সুবহানাল্লাহ’ বলব। খ. দ্বিতীয় প্রয়াস হবে ‘সিজদা’-এর মাধ্যমে। নামাজের বাইরে এমনি এমনি সিজদা দিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে আল্লাহর কাছে সব বলে দিবো। নামাজের সিজদায় কুরআন ও সুন্নাহর বাইরে দোয়া পড়ব না। বাংলায়ও নয়। ৪ঃ সুসংবাদ ও নৈকট্য (البشارة والقرب)। وَبَشِّرِ ٱلصَّـٰبِرِینَ (ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, জান-মাল ও ফসলহানীর সময় যারা) সবরের পরিচয় দেয়, তাদেরকে সুসংবাদ দিন (বাকারা: ১৫৫)। (ক). সুসংবাদঃ আমি বিপদে পড়লেই এই আয়াত মাথায় এনে, সবরের চেষ্টা চালিয়ে যাবো। আমি সবর করলে, আল্লাহর সুসংবাদের ‍উপযুক্ত হবো, একথা একমুহূর্তের জন্যও ভুলে যাবো না। (খ). নৈকট্যঃ أُو۟لَـٰۤىِٕكَ عَلَیۡهِمۡ صَلَوَ ٰ⁠تࣱ مِّن رَّبِّهِمۡ وَرَحۡمَةࣱۖ وَأُو۟لَـٰۤىِٕكَ هُمُ ٱلۡمُهۡتَدُونَ এরা সেই সব লোক, যাদের প্রতি তাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে বিশেষ করুণা ও দয়া রয়েছে এবং এরাই আছে হিদায়াতের উপর (বাকারা” ১৫৭)। বসীরাহ-ইবরাহঃ আমার প্রতি আল্লাহর পক্ষ হতে বিশেষ করুণা ও দয়া বর্ষিত হবে। এর চেয়ে বড় নৈকট্য আর কী হতে পারে? ৫ঃ বিষন্নতানাশের এই কুরআনি রূপরেখা অনুসরণ করলে, পৃথিবীর সবচেয়ে বিষন্ন মানুষটাও তার দুর্গতি কাটিয়ে উঠতে পারবে। ইন শা আল্লাহ। রব্বে কারীম আসান করুন। আস্তাগফিরুল্লাহ। ওয়া আতুবু ইলাইহি। আতিক উল্লাহ