ছোট একটা কাজে বাইক সার্ভিসিং সেন্টারে গিয়েছিলাম। লবিতে বসেছি, বাকী সবাই মোবাইল স্ক্রীনে তাকিয়ে কিছু না কিছু একটা করছে - এবং সাথে উপরে টিভি চলছে। সংবাদের মাঝে বিজ্ঞাপন বিরতিতে হঠাৎ আমার নজর কাড়লো। বলছে + দেখাচ্ছেঃ
"হে মুমিনগণ, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেভাবে ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।" (বাক্বারা - ১৮৩)
সৌজন্যে - একটা কনভেনশনাল সুদী ব্যাংক।
--
অথচ এই একই সুরার ২৭৫-২৭৯ পর্যন্ত সুদের ব্যাপারে বলা আছে। যেমন ২৭৫ আয়াতে বলা আছেঃ
"যারা সূদ খায়, তারা সেই লোকের মত দাঁড়াবে যাকে শয়ত্বান স্পর্শ দ্বারা বেহুশ করে দেয়, এ শাস্তি এজন্য যে, তারা বলে, ‘ক্রয়-বিক্রয় সূদের মতই’, অথচ কারবারকে আল্লাহ হালাল করেছেন এবং তিনি সূদকে হারাম করেছেন। সুতরাং যার নিকট তার প্রতিপালকের পক্ষ হতে উপদেশবাণী পৌঁছল এবং সে বিরত হল, পূর্বে যা (সূদের আদান-প্রদান) হয়ে গেছে, তা তারই, তার বিষয় আল্লাহর জিম্মায় এবং যারা আবার আরম্ভ করবে তারাই অগ্নির বাসিন্দা, তারা তাতে চিরকাল থাকবে।"
আয়াত ২৭৮ এ এসেছেঃ
"হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং বাকী সূদ ছেড়ে দাও, যদি তোমরা ঈমানদার হও।"
এবং এরপর হচ্ছে কুরআনের ভয়াবহতম আয়াতগুলোর মধ্যে অন্যতম, কারো কারো মতে সবচেয়ে ভয়ংকর। মুফাসসিরগণ বলেন হাশরের ময়দানে সুদখোরকে ঢাল-তলোয়ার দিয়ে বলা হবে - "যাও আল্লাহর সাথে যুদ্ধ করো"।
"কিন্তু যদি না কর তাহলে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে যুদ্ধ করতে প্রস্ত্তত হয়ে যাও। আর যদি তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা কর তাহলে তোমাদের মূলধন পেয়ে যাবে, তোমরা অত্যাচার করবেনা এবং তোমরাও অত্যাচারিত হবেনা।" (২৭৯)
- অর্থাৎ আমরা কিছু অংশ মানি, কিছু অংশ মানি না এবং ভাবি "কেউ বুঝেনি, চুপ একদম চুপ"। এ কথাও একই সুরায় ব্যক্ত করা আছে - ৮৫ নাম্বার আয়াতে।
"তবে কি তোমরা কুরআনের কিছু অংশ মানবে, আর কিছু অংশ মানবে না? যদি এমনটি করো, তাহলে দুনিয়াতেই তোমাদের উপর নেমে আসবে লাঞ্চনা ও আখিরাতে রয়েছে কঠোর আযাব।"
-- আল্লাহ আমাদের বুঝার তৌফিক দিন।
