ক্বদরের রাত পেয়ে গেলে কি দুআ করবে এ সম্পর্কে আম্মাজান আইশা রাদিআল্লাহু আনহা একবার রাসুলুল্লাহ ﷺ কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি ﷺ একটা দুআ শিখিয়ে দেন ।
اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي
"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা 'আফুউউন তুহিব্বুল 'আফওয়া ফা'ফুুউ আন্নী।"
-“ হে আল্লাহ ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন । অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দিন । (তিরমিজি-৩৫১৩)
লক্ষণীয় বিষয় হলো, দুআটিতে শুধু ক্ষমার কথা বলা আছে । অর্থ-সম্পদ নয়, সুস্থতা নয়, ক্ষমতা নয়, শক্তি নয়, রিযিকের বেশুমার বরকত নয়, চাইতে বলা হয়েছে শুধুই ক্ষমা … একজন বান্দার প্রতি, নিশ্চিত বিচার দিবসের মালিক, প্রবল পরাক্রমশালী আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লার ক্ষমা …
কুরআনে আমার জন্য যতগুলো হার্ট শিভারিং আয়াত আছে তন্মধ্যে সুরা আল ফাজরের এই আয়াতটা অন্যতম । অন্তরে প্রচন্ড রকমের অদৃশ্য খিঁচুনি হয় এই আয়াতটা পড়লে ।
“ সেদিন তার শাস্তির মত শাস্তি কেউ দিবেনা …” [২৫]
এই একটা আয়াত নিয়েও যদি চোখ বন্ধ করে তিরিশ সেকেন্ড ভাবি তখন জাগতিক সব সম্পদ, শক্তি, সম্মান, প্রতিপত্তি, খ্যাতি এগুলো অর্থহীন মনে হয় । এগুলোতো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’লা কাফিরদেরও দেন ।
কিন্তু ক্ষমা ?
ক্ষমা তো শুধুই প্রকৃত মুমিনদের জন্য যারা সেই মহা বিচার দিবসে তাঁর মর্মন্তুদ ও কঠোরতর শাস্তি থেকে নিরাপদ হয়ে যাবে ।
খুব শীঘ্রই আমরা প্রবেশ করতে যাচ্ছি রমাদানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শেষ দশকে যাতে আছে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ একটি রাত । এই রাতে আল্লাহ সুবহানাহু তা’লা তাঁর কতক বান্দাদের প্রতি বিশেষ সদয় দৃষ্টিপাত করবেন, তাদের ক্ষমা করে দিবেন ।
জীবনে অনেকগুলো রাত ঘুমে কাটিয়েছি । শেষ এই দশ রাত অন্তত আমাদের চোখগুলো নির্ঘুম কাটুক, ক্ষমার আকুতি নিয়ে অশ্রুশিক্ত কাটুক যেন আখিরাতে ভয়াবহ বিচার দিবসে আমাদের এ চোখগুলো প্রশান্ত থাকে … নির্ভার থাকে …
এবং এক আনন্দময় অপেক্ষায় বিভোর থাকে তাদের দয়াময় রবকে স্বচক্ষে দেখার …
(✍️Nusrat Zahan)
https://www.facebook.com/nusrat.zahan.777
