অন্যের চোখে নিজের অস্তিত্বকে খুঁজে বেড়াবেন না।
বিষণ্ণ রূহের প্রতি আল্লামা ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ এর গুরুত্বপূর্ণ নাসীহা -
সত্যিকার অর্থে কোন বন্ধু আপনার কঠিন পরিস্থিতির ভাগ নিজের কাঁধে চাপাবে না এবং আপনার প্রিয়পাত্র দুঃখ কষ্ট গুলোকে সরিয়েও দিতে পারবে না আর খুব ঘনিষ্ঠ কেউ আপনার পাশে থেকে রাতের পর রাত সঙ্গও দিবে না। কাজেই নিজের প্রতি যত্নবান হউন, রক্ষণশীল হয়ে নিজেকে পরিচর্যা করুন। জীবন ঘটনা গুলোকে অযথা অপ্রয়োজনীয় মূল্য দিবেন না।
যখন আপনি ভেঙ্গে পড়েন, তখন আপনি ছাড়া অন্য কেউ আপনাকে পুনরায় সামনে এগিয়ে নিবে না। আপনি যখন হেরে যাবেন, তখন আপনার নিজের দৃঢ় সংকল্প ছাড়া কেউ বিজয়ী করতে পারবে না। ঘুরে দাঁড়িয়ে এগিয়ে চলা তো আপনার নিজ দায়িত্বে।
অন্যের চোখে নিজের মূল্যকে খুঁজে বেড়াবেন না। নিজের অস্তিত্বকে নিজে মূল্য দিতে শিখুন। যদি আপনি আত্মসচেতনতায় স্থীর থাকতে পারেন, আপনি অবশ্যই উন্নতির শীর্ষে আরোহন করতে পারবেন। আর যদি নিজের আসল পরিচয় উপলব্ধি করতে পারেন, তাহলে আপনার সম্পর্কে যা বলা হচ্ছে তা আপনার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।
এই জীবনকে নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হবে না, কারণ এই জীবন তো আল্লাহর জন্য। আপনার রিযিক নিয়ে পেরেশান হবেন না, রিযিক তো আল্লাহর তরফ থেকেই আসবে। আর ভবিষ্যৎতে কী হবে না হবে তা ভেবে ভেবে অস্থির হবে না, কারণ আপনার ভবিষ্যৎ তো আল্লাহরই হাতে।
এই ব্যাপারে লেগে থাকুন-
কীভাবে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা যায়। কারণ, যদি তাঁকে আপনি খুশি করেন, তিনিও আপনাকে খুশি করবেন, আপনার প্রয়োজন মিটিয়ে আপনাকে জাগতিক এবং আত্মিক দিক থেকে দুনিয়া এবং আখিরাতে সমৃদ্ধশালী করবেন।
যা আপনার হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে, তার জন্য নিজেকে শেষ করে দিবেন না। শুধু দুআ করুন, "হে আল্লাহ, আমাকে দুনিয়া এবং আখিরাতে উত্তম কল্যাণকর প্রতিদান দিন।"
বিষণ্ণতাকে একটি আন্তরিক সেজদাহ মুহূর্তেই মিটিয়ে দিতে পারে। সুখের দিন আসে আন্তরিক দুআ এর বরকতে। আপনার ভালো কাজ গুলো তো আল্লাহ ভুলে যান নি। অন্যের প্রতি আপনার করা ইহসান এবং তাদের দুঃখ দুর্দশা দূর করার প্রচেষ্টাকেও আল্লাহ ভুলে যান নি। অন্যের কান্নাভরা ছলছল চোখে আপনি যে হাসি ফুটিয়েছিলেন, তাও আল্লাহ ভুলে যাবেন না।
এই নীতি অবলম্বন করে চলুন-
অপরের জন্য কল্যাণকর হয়ে যান, যদিও বা অন্য কেউ আপনার জন্য কল্যাণকামী না হয়। শুধুই এই কারণে যে আল্লাহ নেককারদের ভালোবাসেন, আর কোন স্বার্থে নাহ।
© নজরুল ইসলাম
