যারা আজান- ইকামত এর মাঝে দোয়া করার বিষয় বুঝেন না, তারা এই বোনের দুআ কবুল হওয়ার গল্প পড়ুন মনোযোগ দিয়ে।
⭕⭕দু'আ কবুল হবেই ইনশাআল্লাহ⭕⭕
আমার একটা বেষ্ট ফ্রেন্ড আছে,ও কুয়ালালামপুরের স্থানীয়। একবার ওর বাসায় আমার দাওয়াত ছিল,ওর বাসায় যাওয়ার পর ওর রুমে আমি একটা আশ্চর্য জিনিস দেখেছি তাহলে ডিজিটাল নামাজের টাইম টেবিল। রুমের দেয়ালের সাথে বড় এক নামাজের জামাতের টাইম টেবিল সাজানো...
আমি কৌতুহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলাম এই নামাজের টাইম টেবিল তো মসজিদে থাকে তোমার বাসায় কেন??
ও উত্তর দিলো এটা দেখে আমি আর আমার মা দোয়া করি!!কারন হাদিসে আছে আজান ইকামতের মাঝখানে দোয়া করলে তা ফেরত দেওয়া হয়না!! বাবা মসজিদ থেকে জামাতের টাইম দেখে এখানে চেইঞ্জ করে দেয়...আজান দিলেই আমি আর মা দোয়া করতে বসে যাই.... এতদিন যত দোয়া এই সময়ের মধ্যে করেছি তার অধিকাংশই কবুল হয়েছে....
আমি খুব ইন্সপায়ার হলাম, এরপর কুয়ালালামপুরের অনেক জায়গায় আমি নামাজের টাইম টেবিল খুঁজেছি কিন্তু পাইনি পরে কাগজে কম্পস করে নিয়েছিলাম
আমার ভার্সিটির ক্যাম্পাসের দক্ষিণ পাশে বড় এক মসজিদ আছে আর ওই মসজিদে মুয়াজ্জিনির সুমধুর কন্ঠর আজান যে কারো হৃদয়কে শান্ত করতে পারে। এখানে ছেলে মেয়ে সবার জন্য মসজিদ উন্মুক্ত আমি জেনে নিয়েছিলাম আযানের 15 মিনিট পরে এখানে জামাত হয় বিশ্বাস করবেন কিনা জানিনা এই 15 মিনিট আমার কাছে এখোনো মনে হয় কোটি টাকার চেয়েও দামি কারণ এই 15 মিনিট আমি যা দোয়া করতাম সবই কবুল হয়ে যেত।
একদিন আসরের আজান শেষ হওয়ার সাথে সাথে উদ্ভট এক দোয়া করে বসি!! ওইদিনই আমাদের একটা পরীক্ষা ছিল,পরীক্ষাটা আমার মোটেই ভালো হয়নি,আমি মনে মনে দোয়া করলাম হে আল্লাহ পরীক্ষাটা যদি বাতিল হত!!(উদ্ভট একারনে বললাম কারন এর আগে কখনো শুনিনি এখানের কোন পরীক্ষা বাতিল হয়েছে)
পরদিন সকালেই নোটিশ বোর্ডে লেখা দেখলাম গতকালের পরীক্ষা অনিবার্য কারনে বাতিল করা হয়েছে!!
আজান -ইকামতের মাঝখানে একাগ্রচিত্তে আপনিও দোয়া করে দেখতে পারেন ..ইনশাআল্লাহ দেখবেন কবুল হয়ে গেছে।
ইকামাতকিএবংএরসময়ঃ
: দু'আ কবুলের অন্যতম সময় হলো আযান এবং ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়টুকু। . রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, "আযান ও ইকামাতের মধ্যবর্তী সময়ের দু'আ ফিরিয়ে দেয়া হয়না।” (আবু দাউদ ৫২১, তিরমিজি ২১২) . অনেক বোনের জিজ্ঞাসা "ইকামাত কী? আমরা কীভাবে বুঝব কখন ইকামাত হচ্ছে?" . মাসজিদে আযান হওয়ার ১৫/৩০ মিনিট পর জামাতে নামায শুরু হয়। জামাতে নামায শুরুর পূর্ব মুহূর্তে আযানের বাক্যগুলো দিয়ে মাসজিদে আবার আযান দেয়া হয়, যাতে সবাই জামাতে এসে শামিল হয়। এটাকেই ইকামাত বলে। এটি আযানের মত এত দীর্ঘ ও উচ্চ আওয়াজে (মাইকে) বলা হয় না, বরং একটু দ্রুত বলা হয়। ইকামাত শেষ হওয়া মাত্রই জামাতের সাথে নামায শুরু হয়ে যায়। . আযানের কতক্ষণ পর ইকামাত শুরু হয়? . ১। সাধারণত ফজরের আযানের ৩০ মিনিট পর ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়ে যায়। যেমনঃ বর্তমানে ভোর ৪:৩০-এ ফজরের আযান হয় ও ৫:০০-টায় ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়ে যায়। . ২। দেশের অধিকাংশ মাসজিদে ১টায় আযান হয় এবং দেড়টায় ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়। অনেক স্থানে আবার সোয়া একটায়ও জামাত শুরু হয়। . ৩। আসরের আযানের ১৫ মিনিট পর ইকামাতের মাধ্যমে জামাত শুরু হয়। . ৪। মাগরিবের আযানের পরপরই জামাত শুরু হয়। সাধারণত ২ থেকে ৫ মিনিট পরই জামাত শুরু হয়। . ৫। ইশার আযানের ১৫ মিনিট পর জামাত শুরু হয়। . সাধারণভাবে আযান থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে দু'আ করতে পারেন নিঃসংকোচে। কারণ ১৫ মিনিট আগে কোথাও ইকামাত শুরু হয় না (মাগরিব বাদে)। এ সময় বেশি বেশি দু'আ করুন।
. দুআর শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা করবেন। সেটা হতে পারে সূরা ফাতিহার প্রথম আয়াত বা আয়াতুল কুরসির প্রথম লাইনটি (কিংবা পুরোটা)।
. এরপর দুরুদে ইবরাহীম (যেটা নামাযের শেষ বৈঠকে পড়ি) পড়বেন। এরপর নিজের মত করে দু'আ করবেন। .
দু'আর মাঝে একটু পর-পর "ইয়া হাইয়ু ইয়া ক্বাইয়ূমু" পড়তে থাকবেন। দু'আ ইউনুসও পড়বেন (লা ইলাহা ইল্লা আনতা... যোয়ালিমিন)। . দু'আ শেষ করবেন আগের মতই-- আল্লাহর প্রশংসা, অতপর দুরূদ এরপর "আমীন" বা "ইয়া যাল জালালি ওয়াল ইকরাম" বলে দু'আ শেষ করবেন। অথবা আল্লাহর কোন গুণবাচক নাম দিয়ে ।
বিঃদ্রঃ উযু করে দু'আ করবেন। অন্তরে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে দু'আ করবেন। এটাই উত্তম পদ্ধতি।
মহান রব সকলের নেক দু'আ সমূহ কবুল করুন। আমিন জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।•••
