এই জন্যই বলি এর দরদ না। আগে বুঝুন, খবর নিন।
ইদানিং ডিভোর্সের কারণগুলোর মধ্যে অদ্ভুত সব ঘটনা সামনে আসছে। আমার কেন জানি মনে হয়, নতুন প্রজন্মের অনেক তরুণীরই মন-মানসিকতা বোঝা বেশ কঠিন যে, ওরা আসলে কি চায়। অন্তত ৬-৭ টা ঘটনা শুনে এই মন্তব্য করলাম। একটা শেয়ার করি।
এক তরুণ-তরুণীর মধ্যে কয়েক বছরের প্রেম ছিল। ব্রেক আপ হয়ে গেলে তরুণী খুব ভেঙ্গে পড়ে। এই সময় ওর পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল ওর কাজিন, মেরিনের এক জুনিয়র অফিসার। আলোচনার পর পারিবারিক সিদ্ধান্তে দুজনের বিয়ে হয়।
মেরিনার ছেলেটা তরুণীকে সব অতীত ভুলে নতুন করে সবকিছু শুরু করার জন্য অনুরোধ করে। মাস দুই সংসার করার পর ছেলেটা কয়েক মাসের জন্য শিপে চলে যায় চাকুরি করার জন্য৷
এরমধ্যে ওর বউয়ের সাথে আগের প্রেমিকের নতুন করে যোগাযোগ শুরু হয়। ছেলেটা ওর বউকে কল দিলে মাঝেমধ্যেই এঙ্গেজ পেত। দেশে আসার পর ওর সামনে কিছু প্রমাণ চলে আসে। ছেলেটা ওর বউকে অনেক বুঝিয়ে আবার সংসারে মনোযোগ দিতে অনুরোধ করে।
পরেরবার শিপে যাবার পর পরিস্থিতি আরো বিগড়ে যায়। এবার মেয়েটা বাসার বাইরেও ছেলেটার সাথে দেখা করা শুরু করে। সবকিছু জেনে ছেলেটা কন্ট্রাক্ট অসমাপ্ত রেখেই দেশে ফিরে আসে।
মেয়েটা এবার জিদ ধরে, ওকে ডিভোর্স দিতে হবে এবং দেনমোহরও পরিশোধ করতে হবে। পারিবারিকভাবে কয়েকবার মিটিং করেও কোন লাভ হয়নি। মামলা হলে ছেলেটার শিপে যাওয়া কঠিন হয়ে যাবে বিধায় মেয়েপক্ষ হতে দেনমোহর এর একটা পুনঃপ্রস্তাবিত অংক পরিশোধ করে ছেলেটা ডিভোর্স দেয়।
ইতিমধ্যে ডিভোর্স এর ৯০ দিন পেরোবার আগেই মেয়েটার পুরানো প্রেমিক আরেকটা মেয়েকে বিয়ে করে। ওর উদ্দেশ্য দুইভাবেই সার্থক হয়েছে। মেয়েটার সাথেও বাইরে হোটেলে বহুবার দেখা হয়েছে আবার বিয়ে করার প্রতিশোধ হিসেবে মেয়েটার ঘরও ভেঙ্গে দিয়েছে।
আপাতত মেরিনার ছেলেটা আর ওর প্রাক্তন স্ত্রী দুজনেই আলাদা যার যার পরিবারের সাথে আছে। দুজনেই দুই কারণে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। মেরিনার ছেলেটা আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল ওর কাহিনী শেয়ার করার জন্য৷ একদম সাদাসিধা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।
পরিবারের একটা মেয়ের সম্মান বাঁচাতে গিয়ে বিয়ে করেছিল কিন্তু সাহায্য করতে গিয়ে ওর অর্থ, সম্মান, সময় সবই গেল। মাঝে বিয়ে নামের কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতারও মুখোমুখি হতে হল খামোখাই।
এই ছেলেটা আবার কোন মেয়েকে সহজে বিশ্বাস করতে পারবে? Atique Ua Khan
