HTMLy

Just another HTMLy blog

ইসলামিক দিকে থেকে নার্সিসিস্টিক পার্টনারের সাথে কিভাবে টিকে থাকা যায় ? কোন টিপস আছে কিনা।

- Posted in islamic by

কেউ কেউ জানতে চান যে,

নার্সিসিস্টিক পার্টনারের সাথে কিভাবে টিকে থাকা যায় ? কোন টিপস আছে কিনা।

এ কথার উত্তর দেবার আগে আমি কিছু কথা বলতে চাই।

সংসার জীবনে সমস্যা কমবেশি সব জায়গাতেই হয়। পৃথিবীতে কেউই সুখের সাগরে ভাসে না। পরীক্ষা সবাইকেই দিতে হয় এই দুনিয়ার জীবনে। কাউকে পার্টনারের দিক থেকে। কাউকে আর্থিক দিক থেকে। কাউকে শারীরিক অসুস্থতার দিক থেকে। কাউকে জ্বিনজাতির দিক থেকে। কাউকে সন্তানের দিক থেকে। [অনেকের সন্তান হয় না। অনেকের প্রতিবন্ধী সন্তান। অনেকের অমানুষ সন্তান। ] কাউকে বাবা-মা ভাইবোনের দিক থেকে। কাউকে এবিউসিভ ইন ল এর দিক থেকে। অথবা অন্যকোন আত্মীয় বা প্রতিবেশীর দিক থেকে। আবার কোন দেশের মানুষ যুদ্ধ কবলিত।

আবার কাউকে কাউকে উপরে উল্লেখিত একাধিক দিক থেকে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

অর্থাৎ দুনিয়ার জীবনে পরীক্ষা ছাড়া কেউ থাকতে পারবে না।
.


.

এখন আসি পার্টনারের বিষয়ে।

যারা পার্টনারের দিক থেকে সুখী তাদেরকেও কিন্তু টুকিটাকি কিছু না কিছু সমস্যার সম্মুখীন হতেই হয়। কিছু না কিছু বিষয় স্যাক্রিফাইস করতেই হয়। সেটা ভিন্ন বিষয়।

আমি বলতে চাই যারা পার্টনারের দিক থেকে সিরিয়াসলী অসুখী তাদের বিষয়ে।

পার্টনারের দিক থেকে সিরিয়াসলী অসুখী হলেই কি তাদের জন্য একমাত্র সমাধান সেপারেশন?

উত্তরটা জটিল। তবে এক কথায় বলতে গেলে, 'না'।

কারো কারো জন্য সেপারেশনটা এরকমও হতে পারে,

যেমন একটা ব্যাঙ ফুটন্ত পানি থেকে লাফ দিয়ে বের হয়ে গেল। জীবন বাঁচানোর জন্য। কিন্তু দেখা গেল সে গিয়ে পড়েছে জ্বলন্ত উনুনের ভিতরে।

কিন্তু ব্যাঙটা তো জানতো না যে এই পাতিল থেকে বের হয়ে গেলে তার জন্য কি অপেক্ষা করছিল!

বের হয়ে যখন উনুনের মধ্যে পড়েছে তখন বুঝতে পেরেছে।

এখানে শিক্ষা এটাই যে, আল্লাহর পরীক্ষা থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত বের হওয়া যায় না যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ চান!

এটাই বাস্তব সত্য!

এক পরীক্ষা থেকে বের হলে আরেক পরীক্ষার মধ্যে পড়তে হবে। পরবর্তীটা পার্টনারের দিক থেকেও হতে পারে। অন্যদিক থেকেও হতে পারে। দেখা গেল পরবর্তী সংসারের পার্টনার ভালো, কিন্তু জীবনের এমন একটা গুরুত্বপূর্ণ দিক থেকে আল্লাহ পরীক্ষা নিচ্ছেন যে সেটাও সহ্য করতে পারছেন না। দিনশেষে হিসাব করলে দেখা গেল, জীবনের দুঃখ-কষ্ট-যন্ত্রণার পরিমাণ একই লেভেলে আছে। আল্টিমেইট দুঃখ-যন্ত্রণার হিসাবনিকাশে মোট পরিমাণ একই রকম আছে। অথবা বেড়েও গেছে। এমনও অনেকের জীবনে দেখা যায়। আগের জীবনে যতটুকু অসুখী ছিল, পরের জীবনে তার থেকেও বেশি অসুখী।

.

.


.

.

এখন কথা হচ্ছে, এইসব পরীক্ষা-দুঃখ-কষ্ট থেকে কি নিস্তার নেই ?

হ্যাঁ নিস্তার আছে। সেটা পরে বলছি।

তবে একটা বিষয় সবসময় মাথায় রাখতে হবে যে, দুনিয়ার জীবনে কিছু না কিছু দুঃখ-কষ্ট সবসময় ই থাকবেই।
এই বিষয়টা মেনে নিতেই হবে। দুনিয়া পরিপূর্ণ সুখের জায়গা না। সেটা একমাত্র জান্নাতে সম্ভব। তাই দুনিয়ার জীবন থেকে আকাঙ্খা কমাতে হবে। আর মৃত্যু খুব সন্নিকটে এটা সবসময় মাথায় রাখতে হবে। তাহলে এই পরীক্ষার সময়গুলো পার করা তুলনামূলক সহজ হবে। কবরের আজাব , জাহান্নামের শাস্তি এসব নিয়ে বেশি ভাবতে হবে। নিজের আমলনামার পরীক্ষা হচ্ছে এই দুঃখ-কষ্টগুলোর মধ্য দিয়ে। আপনি কিভাবে রেসপন্স করছেন এই পরীক্ষাগুলোর সাথে, এর মধ্য দিয়েই আপনার মার্কিং হচ্ছে। সেই মার্কিংয়ের দিকেই বেশি ফোকাস রাখতে হবে।

অর্থাৎ পরীক্ষার চাইতে ফলাফলের দিকে বেশি মনোযোগী হতে হবে। পরীক্ষা ক্ষণস্থায়ী! কিন্তু ফলাফল চিরস্থায়ী!

এই পরীক্ষার মধ্যে আপনি কতটুকু ভালভাবে পারফর্ম করছেন সেই ফলাফলটা আপনি অনন্ত জীবন ভোগ করবেন। এমনকি দুনিয়াতেও অনেক ফল পাবেন। ধৈর্য্যের ফল।

ধৈর্য্য এটা না যে সংসারে টিকে থাকার ধৈর্য্য। বরং ধৈর্য্য হচ্ছে সৎপথে টিকে থাকার ধৈর্য্য।

সংসারে টিকে থাকলে আপনি ধৈর্য্যশীল আর না থাকলে অধৈর্য্যশীল, ব্যাপারটা সেরকম না।

বরং আপনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী চলতে পারছেন কিনা সেটাই আসল ধৈর্য্যের পরিচয়। অনেকেই অনেক গোপন গুনাহে লিপ্ত। বাইরে থেকে মনে হয় সেইরকম আমলদার।

ধৈর্য্যশীল সে ই যে যেই পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই চলুক না কেন নিজের ঈমান ধরে রাখতে পারছে। সৎভাবে থাকতে পারছে। সততা ও ন্যাপরায়ণতা বজায় রাখার জন্য স্যাক্রিফাইস করছে। কারো হক্ব নষ্ট করছে না। কাউকে কষ্ট দিচ্ছে না। জুলুম করছে না। প্রতিশোধ নিচ্ছে না। ক্ষমা করে দিচ্ছে।

.

.


.

.

আপনার কি এই সংসারে ধৈর্য্য ধরে টিকে থাকা উচিত? নাকি ধৈর্য্য ধরে সেপারেশনের মত জটিল প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে পাড়ি জমানো উচিৎ? সেটা একমাত্র আল্লাহ ভালো জানেন!

আমরা কেউ ভবিষ্যৎ জানিনা! শুধুমাত্র আল্লাহ জানেন!

তাহলে আমার পরিস্থিতিতে আমার জন্য কোনটা সমাধান সেটা আমি কিভাবে বুঝবো?

ইস্তিখারা!

সেটা বুঝার জন্য আল্লাহ আমাদেরকে পথ বাতলে দিয়েছেন। আমাদের সব সমস্যার সমাধান হচ্ছে ইস্তিখারা। একটা পরিস্থিতিতে আমার জন্য টিকে থাকা বেশি বুদ্ধিদীপ্ত হবে ? নাকি বের হয়ে নতুন করে শুরু করা ভালো হবে সেটা আমরা জানতে পারবো আল্লাহর রাসূলের বাতলে দেয়া এই ইস্তিখারা নামক পদ্ধতির মাধ্যমে।

ইস্তিখারার দুয়াটা একটু দেখা যাক।

হে আল্লাহ! আমি আপনার জ্ঞানের সাহায্যে আপনার কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করছি। আমি আপনার শক্তির সাহায্যে শক্তি ও আপনার অনুগ্রহ প্রার্থনা করছি। কেননা আপনিই ক্ষমতা রাখেন; আমি ক্ষমতা রাখি না। আপনি জ্ঞান রাখেন, আমার জ্ঞান নেই এবং আপনি অদৃশ্য বিষয়ে সম্পূর্ণ পরিজ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ (নিজের প্রয়োজনের নামোল্লেখ করবে) আমার বর্তমান ও ভবিষ্যত জীবনের জন্য কিংবা বলবে আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে কল্যাণকর হলে আপনি তা আমার জন্য নির্ধারণ করে দিন। সেটা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং তাতে বরকত দিন। হে আল্লাহ্‌! আর যদি আপনার জ্ঞানে আমার এ কাজ আমার দ্বীনদারি, জীবন-জীবিকা ও কর্মের পরিণামে কিংবা বলবে, আমার বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য অকল্যাণকর হয়, তবে আপনি আমাকে তা থেকে ফিরিয়ে দিন এবং সেটাকেও আমার থেকে ফিরিয়ে রাখুন। আমার জন্য সর্বক্ষেত্রে কল্যাণ নির্ধারণ করে রাখুন এবং আমাকে সেটার প্রতি সন্তুষ্ট করে দিন।” [সহিহ বুখারী (৬৮৪১)]

সেপারেশনের চিন্তা মাথায় আসলে এই দুয়াটা পড়তে হবে। স্বলাতের শেষে। তারপর পুরো বিষয়টাতে আল্লাহর উপর নির্ভর করতে হবে। এরপর আল্লাহ যেই দরজাটা খুলে দেন সেটাই সমাধান। অথবা যদি কোন দরজা বন্ধ করে দেন তাহলে সেটাই সমাধান। অর্থাৎ আল্লাহর ফয়সালা।

যথেষ্ট পরিমাণে ইস্তিখারা করার পর যদি দেখেন যে আপনার দাম্পত্য সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে, অথবা সাংসারিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে যে আপনার জন্য এই সংসারে টিকে থাকাটাই বেশি কল্যাণকর।

আর যদি দেখেন যে অশান্তি আরো বেড়ে যাচ্ছে। এবং সেপারেশনের রাস্তাগুলো সহজ হয়ে যাচ্ছে, তখন বুঝবেন যে আল্লাহ আপনাকে বের হয়ে যাবার রাস্তা দেখাচ্ছেন।

সন্তান না হয়ে থাকলে নার্সিসিস্ট ব্যক্তির সাথে সন্তান নেবার কোন প্রয়োজন নেই। আর তার টাকার জন্যেও টিকে থাকার প্রয়োজন নেই। আপনি স্ত্রী হলে। কারণ কিছু না কিছু করে আপনার নিজের পেট চালানোর সক্ষমতা আল্লাহ আপনাকে দিয়ে রেখেছেন।

.

.


.

.

এখন ধরা যাক নার্সিসিস্ট পার্টনারের সাথে টিকে থাকার ব্যাপারেই আল্লাহ আপনাকে সিগন্যাল দিল। তখন কি করবেন?

একটা শিশু কিশোরদের মত মানসিক বোধ সম্পন্ন মানুষের সাথে আপনাকে একজন এডাল্ট হয়ে টিকে থাকতে হবে পার্টনার হিসেবে। এমনি এমনি একসাথে থাকা না। Conjugal পার্টনার হিসেবে একসাথে থাকা!

নিঃসন্দেহে চ্যালেঞ্জিং!

সন্তানদের কথা চিন্তা করেই হোক আর আপনার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই হোক, আল্লাহ আপনার জন্য এই পরিবেশটা কল্যাণকর মনে করছেন, তুলনামূলক অন্য্ পরিবেশের তুলনায়। আল্লাহ জানেন যে এখান থেকে বের হলে আপনার জন্য জীবনটা আরো বেশি কঠিন হয়ে পড়বে। আল্লাহ ভালো করেই জানেন সেটা। সেজন্য আপনাকে এখানে রেখেই পরীক্ষা করতে চাচ্ছেন। আপনার জন্য এই পরীক্ষাটাই আল্লাহ উপযুক্ত মনে করেছেন। পছন্দ করেছেন। এই পরীক্ষাটাই দিয়ে যাওয়া আপনার জন্য কল্যাণকর।

সবচেয়ে আশার আলো এটাই যে পরীক্ষা যত কঠিন, কষ্ট যত বেশি, পুরস্কার তত বড়। আখিরাতে আল্লাহর পুরস্কারগুলো যখন দেখবেন তখন বলবেন, আল্লাহ দুনিয়ার জীবনে আরো কষ্ট কেন দিলে না!

.

.


.

.

আপনি সবসময় মাথায় রাখবেন যে,

  • আপনার পার্টনার একজন শিশু অথবা কিশোর বয়সীদের মত মানষিক বিকাশ সম্পন্ন।
  • সে আপনার আবেগ অনুভূতি কখনো বুঝবে না।
  • কোন কাজটার মাধ্যমে সে আপনাকে কঠিন বিপদের মধ্যে ফেলে দিচ্ছে, আপনার বিশাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, সে বুঝবে না।
  • কোন কাজটার মাধ্যমে সংসারের, বাচ্চাদের বিশাল ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে, সে বুঝবে না।
  • কোন আচরণটার মাধ্যমে আপনি ভয়ংকর কষ্ট পেয়ে যাচ্ছেন সে বুঝবে না।

[আপনি যখন দুঃখ-কষ্টের সাগরে ডুবে মরে যাচ্ছেন সে তখন ভিন্ন জগতে বসবাস করবে। সে আপনার অনুভূতির জগতের ধারে কাছেও নেই। যেমন আপনার যখন কাছের কেউ (বাবা-মা) মারা যায়, তখন আপনি পাগলের মত কাঁদতে থাকলে যেমন আপনার বাচ্চারা ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে থাকে। তারপর একটু পরেই আবার কার্টুন দেখার জন্য কান্না শুরু করে। অথবা আইসক্রিমের জন্য। আপনার নার্সিসিস্ট পার্টনার এর অবস্থাও তাই। আপনি ভয়ংকর যন্ত্রণায় বুক ফেটে কাঁদছেন, আপনার পার্টনার তখন ভাবছে "আজকের রান্নাটা তাহলে আমাকেই করতে হবে!" "আবার যেসব মানুষ আসবে এদেরকে তো ঠিকমত নাস্তা দিতে হবে। নইলে ইমেইজ রক্ষা পাবে কিভাবে!" অথবা নার্সিসিস্ট স্ত্রী ভাবছে, "না জানি স্বামী আবার বাংলাদেশ যেতে চায় কিনা। না জানি কত টাকা খরচ হয়ে যাবে! কয়দিন অফিস মিস গেলে স্যালারি আবার কম পায় কিনা। আমাকে আবার কয়েক রাত একা ঘুমাতে হয় কিনা! কি যন্ত্রণা!"]

  • আপনি যখন শারীরিক ব্যাথায় ভয়ংকর কষ্ট পাবেন সে তখন ভাববে "কি একটা ঝামেলায় পড়ে গেলাম"
  • মানুষের কাছে নিজের ক্রেডিট প্রমাণের জন্য সে স্পেশাল পারফর্ম্যান্স দেখানোর চেষ্টা করবে। যেটা সে আসলে শুধু ঐ মানুষগুলোকে দেখানোর জন্যই করবে। অন্যকোন কারণ নেই। তার আসল রূপ সেটা না। এটাকে বলে এটেনশন সিকিং। আপনার বা অন্যকারো দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশেষ কোন কাজ করবে। যেটা আসলে লোক দেখানো।

  • শারীরিক মিলনের মাধ্যমে আপনার প্রতি করুণা করছে, এরকম মানষিকতা প্রদর্শন করবে।

  • আপনার দ্বারা উপকৃত হয়ে আপনার উপকার গুলো সরাসরি অস্বীকার করবে।

  • আপনার জীবনের সমস্ত কিছু নিজের স্বার্থে ব্যবহার করার পরেও নির্দ্বিধায় সবকিছু অস্বীকার করবে।

  • আপনি যতকিছুই তাদের জন্য করেন না কেন কখনো তাদের মন পাবেন না, স্বীকৃতি পাবেন না। তারা কখনো সেটা স্বীকার করবে না। এমনকি যদি আপনি আপনার একটা কিডনীও দিয়ে দেন।

  • আপনি কষ্ট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে পাগল হয়ে গেলেও এই মানুষগুলোর অনুভূতির জগতে এতটুকু নাড়া পড়বে না। তারা ভাব দেখাবে তারা দেখতেই পায় নি। অথবা আপনি কাঁদছেন, কারণ আপনি মানষিক রোগী। আপনার দোষ এটা। তাদের কোন দোষ নেই, কোথাও কোন ভুল নেই। এটা সম্ভব ই না যে তারা কোন ভুল করেছে। .

.

.

আপনাকে এই বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। এবং স্বাভাবিকভাবে নিতে পারতে হবে। নইলে আপনি কষ্ট পেতে থাকবেন। আপনাকে মাথায় সেট করে নিতে হবে যে এই মানুষটার কাছ থেকে এই আচরণ গুলোই স্বাভাবিক।

এই মানুষটা একজন এডাল্ট মানুষ, এটা আপনাকে ভুলে যেতে হবে। আপনাকে মাথায় রাখতে হবে যে এই মানুষটা একজন শিশু কিশোর বয়সীর মত মানষিক বিকাশ সম্পন্ন। তার কথাবার্তা, আচার, আচরণ, চিন্তা ভাবনা ঐরকম ই হবে।

আপনাকে ভুলে যেতে হবে যে আপনার সাথে একজন পার্টনার আছে। আপনাকে মেনে নিতে হবে যে আপনার পার্টনার মৃত। অনুপস্থিত। আপনার জীবনে কোন পার্টনার নেই। আপনার সত্যিকারের পার্টনার আপনার জন্য আখিরাতে অপেক্ষা করছে। তাকে পাবার জন্য আপনাকে দুনিয়ার জীবনের এই পরীক্ষাগুলো দিয়ে যেতে হবে। এখানে পাশ করলে আপনি তাকে পাবেন। ইন শা আল্লাহ!

আপনাকে নিজেকে বুঝাতে পারতে হবে যে আপনার জীবনে পার্টনার অনুপস্থিত। এরপরে যতটুকু যা পাচ্ছেন সেটাই বোনাস। যেমন আপনি যদি মহিলা হয়ে থাকেন তাহলে আপনার নার্সিসিস্ট স্বামী হয়তো বাসা ভাড়া দিচ্ছে। হয়তো সংসারের বাজার খরচ দিচ্ছে। হয়তো ছেলেমেয়েদের লেখাপড়ার খরচ দিচ্ছে।
অথবা নার্সিসিস্ট স্ত্রী নিয়মিত রান্নাবান্না করছে। ঘরদোর সব গুছিয়ে রাখছে। বাচ্চাদের দেখাশোনা করছে। ইত্যাদি।

যতটুকুই যা পাচ্ছেন এটা বোনাস। এটা আপনার পাবার কথা ছিল না। যেহেতু আপনার জীবনে কোন পার্টনার নেই। আল্লাহ আপনাকে দিবেন না বলে ঠিক করেছেন। সেহেতু যা পাচ্ছেন সেটাই বোনাস। এগুলো এক্সট্রা গিফট হিসেবে ধরে নিন।

উপরন্তু আরেকটা বোনাস পাবেন। আপনি যদি সৎ থেকে, আল্লাহর অবাধ্য না হয়ে পরীক্ষাটা দিয়ে যেতে পারেন, তাহলে আপনার উপর খুশি হয়ে আল্লাহ আপনার দুয়া কবুল করবেন। দেখা যাবে আপনি যা চাইবেন তা কবুল হচ্ছে।

শুধু পার্টনারের বিষয়টা ছাড়া। হয়তো এখনো সময় আসেনি আপনার জন্য একজন মনের মানুষ পাবার! আল্লাহ আপনার জন্য পার্টনার বিহীন জীবনটাই বেশি কল্যাণকর মনে করেছেন। এবং আল্লাহ যা কল্যাণকর মনে করছেন সেটাই আসলে কল্যাণকর। এটা ভেবে সন্তুষ্ট থাকুন।

এক জীবনে মানুষ সব পায় না। আর সব নিয়ামত সবার জন্য কল্যাণকর হয় না।

মানুষ জীবনে যেই জিনিসটা সবচেয়ে বেশি মনে প্রাণে চায় সেই জিনিসটা দিয়েই আল্লাহ পরীক্ষা করেন। সেই জিনিসটা আল্লাহ আপনাকে এত সহজে দিবেন না। তার জন্য এই কঠিন পরীক্ষা পাড়ি দিতে হবে। তারপর আপনি পরীক্ষায় পাশ করলে আল্লাহ খুশি হয়ে এক সময়ে সেই কাঙ্খিত জিনিসটা আপনাকে দিবেন। হয়তো এই দুনিয়ায়। অথবা আখিরাতে। আপনাকে অপেক্ষা করতে হবে।

এমন হতে পারে যে যেই জিনিসটা আল্লাহ দিচ্ছেন না সেটা পেলে আসলে আমি আল্লাহকে ভুলে যেতাম। সেই জিনিসটার পূজা শুরু করতাম। নিজের আবেগকে কন্ট্রোল করতে পারতাম না। সেজন্য আল্লাহ বিষয়টা না দিয়ে আমাদের প্রতি ইহ্সান করেছেন। আমরা আল্লাহকে ডেকে সময়গুলো অতিবাহিত করতে পারছি। পেয়ে গেলে হয়তো আল্লাহর এতটুকু সান্নিধ্যেও থাকতাম না! আর আল্লাহকে হারালে তো আসলে সবই হারালো। ইহকাল পরকাল সব! [এই সম্পর্কিত খুব সুন্দর একটা হাদীস আছে। একজন সাহাবীর ঘটনা। সেটা অন্যকোন পোস্টে শেয়ার করব। ইন শা আল্লাহ !]

আপনার আখিরাতের জীবনসঙ্গী কেমন হবে তাকে নিয়ে ভেবে আপনি সময়গুলো অতিবাহিত করতে পারেন। কল্পণার একটা জগৎ তৈরী করে নিতে পারেন। জান্নাতের জীবনটা কত সুন্দর হবে সেটা নিয়ে ভেবে সুখী অনুভব করতে পারেন। জান্নাতের সুন্দর জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বেঁচে থাকতে পারেন।

আর যেকোন দুঃখ-কষ্ট থেকে নিস্তার পাবার উপায় হচ্ছে বেশি বেশি মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত থাকা। হাদীসে আছে, "যে অন্যের সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত থাকে আল্লাহ তায়ালা তার সমস্যা সমাধানে নিয়োজিত থাকেন।"

আরেকটা হচ্ছে, ইস্তিগফার। আল্লাহর কাছে সবসময় ক্ষমা চাওয়া। রাসূল(স) বলেছেন, "ইস্তিগফার যেকোন সংকট থেকে বের হয়ে আসার রাস্তা তৈরী করে দেয়।"

নিজেকে সৎ রাখা। এটা খুব চ্যালেঞ্জিং হবে। কিন্তু করতে পারলে পুরস্কার বিশাল।

এগুলো করতে পারলে আপনার জন্য চলার পথটা তুলনামূলক সহজ হবে। অনেক খানি সহজ হবে। ইন শা আল্লাহ! আল্লাহ আপনার সহায় হোক। আমীন!

Narcissism_Facts

https://www.facebook.com/1259986368/posts/pfbid03SLavG4jwPnEZSqXf1321HFQPKHS4eeLKPSZNAV18jeqbnTyhDSLZ8UNtX9My3zfl/?sfnsn=mo&extid=a&mibextid=71jzmv