HTMLy

Just another HTMLy blog

তার স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) আনহা কে নিয়ে একদল বিকৃত চিন্তার মানুষের সমালোচনা নিয়ে আরব বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে

- Posted in islamic by

প্রফেট হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর তার স্ত্রী আয়েশা (রাঃ) আনহা কে নিয়ে একদল বিকৃত চিন্তার মানুষের সমালোচনা নিয়ে আরব বিশ্বে তীব্র প্রতিক্রিয়া হচ্ছে । বিবিসির সংবাদে এমনটাই দেখলাম ।

এই সমালোচনা উদ্দেশ্য মূলক ভাবে অনেকেই বহু আগে থেকেই করেছেন । আল্লাহ তাদেরকে সঠিক পথ দেখান । হেদায়েত নসিব করুন ।

আয়শা (রাঃ) এর বয়স নিয়ে সমালোচনার পাশাপাশি ওই নবী বিদ্বেষীরা বলে থাকেন প্রফেট তার জীবদ্দশায় এতগুলো বিয়ে কেন করেছেন ? একটা দুটা হলে কথা-তাই বলে ১৩ টি ?

এবার আসুন, একটু গভীরে যাই । মুহাম্মদ (সা:) এর প্রথম বিয়েটা ছিল তখনকার সমাজের চোখে বড় অদ্ভুত । অদ্ভুত এই কারনে যে তার চেয়ে তার স্ত্রীর বয়স ছিল ১৫ বছর বেশি । মুহাম্মদের (সা:) বয়স ২৫ আর তার স্ত্রী খাদিজার( রা:) বয়স ৪০ ! তখন মুহাম্মদ (সা:) নবী ছিলেন না, ছিলেন না কোনো ধনবান বনিক । কিন্তু ছিল তার অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। মানুষ বিশ্বস্ততার জন্য তাকে আলামিন বলে ডাকত । তার এই গুণে মুগ্ধ হয়ে খাদিজা (রা:) তাকে বিয়ের প্রস্তাব করেন, এবং তাদের বিয়ে হয় ।

একটু ভেবে দেখুন, মুহাম্মদ (সা:) এর সাথে খাদিজা (রা:) এর ছিল ২৫ বছরের সংসার । রাসুল এর নবুয়ত লাভের দশবছর পর খাদিজার (রা:) যখন প্রয়াণ হয় তখন তার বয়স ৬৫ বছর আর রাসুলের (সাঃ) ৫০ ! তার জীবদ্দশায় মুহাম্মদ (সা:) কখনোই বিয়ে করেননি । একটা মানুষের যৌবনের শ্রেষ্ঠ সময়গুলো তিনি কেবল মাত্র একজন স্ত্রীর সাথেই কাটিয়েছেন ।

খাদিজার (রা:) মৃত্যুর পর রাসুল (সা:) যতগুলো বিয়ে করেন তার প্রতিটি বিয়ের পেছনে রয়েছে গ্রেটার পারপাস এবং বৃহত্তর লক্ষ্য । তার জীবনের শেষভাগের যে কটি বিয়ে তিনি করেছিলেন, দ্যাট ওয়াজ ইন নো ওয়ে এন ওভারহোয়েলমিং লাস্টফুল ডিজায়ার (জৈবিক চাহিদা পুরণের অভিলাষ ছিলনা) !

তার জীবনে একমাত্র কুমারী স্ত্রী হযরত আয়েশা (রা:), যাকে বিয়ে করার পেছনেও ছিল মহান আল্লাহর ইচ্ছা । পরবর্তীতে তাঁর মাধ্যমে অসংখ্য হাদিস বর্ণিত হয়েছে । এছাড়া হযরত সাওদা (রা:),(খাদিজা রা: এর প্রয়াণের পর প্রথম স্ত্রী), হাফসা (রা:) (হযরত ওমর রা: এর কন্যা) (যার স্বামী বদর যুদ্ধে শহীদ হয়েছিলেন), জয়নাব বিনতে খুজাইমা রা: (তার স্বামী ছিলেন ওহুদ যুদ্ধে শহীদ), উম্মে সালামাহ (বিধবা), জয়নাব বিনতে জাহস ( যাকে বিয়ের জন্য ওহী নাযিল হয়, সুরা ৩৩, আয়াত ৩৭), জুয়াইরা রা: (কৌশল এর অংশ ছিল এই বিয়ে, তার বাবা ছিলেন একটি বড় গোত্রের নেতা ), উম্মে হাবিবা (তৎকালিন কুরাইশ প্রধান আবু সুফিয়ানের কন্যা) , সাফিয়াত (রা:), মায়মুনা (রা:) সহ তাঁর প্রত্যেকটি বিয়ের পেছনে ছিল ইসলাম প্রতিষ্ঠার বিশেষ কৌশল ।

এত কিছুর পরও মুহাম্মদ (সা:) সবসময় খাদিজা (রা:) প্রতি ছিলেন কৃতজ্ঞ এবং তার প্রতি রাসুলের ভালোবাসা ছিল অবিশ্বাস্য ! হযরত আয়েশা (রা:) একবার বলেন, যে আমি রাসুল এর আর কোনো স্ত্রীকে নিয়ে হিংসা অনুভব করিনি একমাত্র খাদিজা (রা:) ছাড়া । অথচ আমি রাসুলের স্ত্রী হবার আগেই তিনি মারা গিয়েছিলেন ।

রাসুল সা: এর স্পষ্ট নির্দেশ ছিল খাদিজা (রা:)কে নিয়ে কখনো খারাপ কিছু বলা যাবেনা । একবার আয়েশা (রা:) রাসুলকে ক্ষ্যাপানোর জন্য মজা করে বলে বসেন, “এত খাদিজা খাদিজা কেন করেন ? ওই দাঁতহীন বুড়ি মহিলা দুনিয়া থেকে বিলীন হয়ে গেছে ! আর এরপর আল্লাহ আপনাকে তার চেয়ে উত্তম স্ত্রী ( আয়েশা) দিয়েছেন !”

রাসুল (সা:) স্পষ্ট স্বরে বলেন, মোটেই না । আল্লাহর কসম, তার থেকে উত্তম স্ত্রী তিনি আমাকে দেননি আর কেউ হবেওনা । যখন আমাকে সবাই অস্বীকার করেছে তখন সে আমার উপর আস্থা রেখেছে, যখন সবাই আমাকে মিথ্যুক ডেকেছে ,তখন সে আমাকে বিশ্বাস করেছে । যখন সবাই আমাকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন সে, তার সবকিছু দিয়ে আমাকে স্বস্তি দিয়েছে । আল্লাহ তার মাধ্যমে আমাকে রহমত দিয়েছেন, আমাকে সন্তান দিয়েছেন ।

আহা ! কী কৃতজ্ঞতাবোধ ! একবার চিন্তা করে দেখেন কতোটা মমত্ববোধ, কতোটা শ্রদ্ধাবোধ তিনি ধারণ করতেন তার স্ত্রীর প্রস্থানের পরও । তিনি যেভাবে তার স্ত্রীদের হক আদায় করেছেন, তাদের সম্মান দিয়েছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন তা পৃথিবীর শেষ পর্যন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে ।