পুরুষ-যে নারীর কর্তা, এই বিধান কি কোনো মোল্লা-মৌলভি বানিয়েছে?
ইসলাম সম্পর্কে যার ন্যূনতম জ্ঞানও আছে সে জানে, এই বিধান স্বয়ং আল্লাহ রাব্বুল আলামীন নাযিল করেছেন। কোনো ইমাম, কোনো ফকিহ, কোনো মুহাদ্দিস এই বিধান জারি করেননি। যিনি এই মহাবিশ্বের রব, তিনিই এটা ঠিক করে দিয়েছেন। তিনিই এই ফরমান জারি করেছেন যে, নারীরা পুরুষের অধীনে পরিচালিত হবে। পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র—সবক্ষেত্রেই পুরুষ হবে নারীর ‘কওয়াম’/কর্তা/ অভিভাবক/তত্ত্বাবধায়ক। . “পুরুষগণ নারীদের ওপর কর্তৃত্বশীল; এ কারণে যে, আল্লাহ তাদের এককে অন্যের উপর মর্যাদা প্রদান করেছেন, আর এজন্য যে, পুরুষেরা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে। ফলে পুণ্যবান স্ত্রীরা (আল্লাহ ও স্বামীর প্রতি) অনুগত থাকে এবং পুরুষের অনুপস্থিতিতে তারা তা (অর্থাৎ তাদের সতীত্ব ও স্বামীর সম্পদ) সংরক্ষণ করে যা আল্লাহ সংরক্ষণ করতে আদেশ দিয়েছেন।” (সূরা নিসা : ৩৪) . আল্লাহর কিতাব পুরুষকেই কর্তা বানিয়েছে। অভিভাবক হিসেবে কারও নাম তালাশ করলে, পুরুষের সিরিয়ালই আগে আসবে। বিয়ের ক্ষেত্রে ওলির প্রশ্ন আসলে বাবাকেই সামনে এগিয়ে দেওয়া হবে। পরিবারের ভরণ-পোষণের জন্যে কারও ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করলে, সে দায় একজন পুরুষকেই বহন করতে হবে। খলিফা, উজির, সেনাপতির দায়িত্ব কোনো-না-কোনো পুরুষের ওপরেই বর্তাবে। কারণ, প্রতিটি ক্ষেত্রে পুরুষ হলো নারীর কর্তা, তত্ত্বাবধায়ক, অভিভাবক। আর নারীরা পুরুষের অধীনস্থ। . যখন বাবা জীবিত থাকবেন, তখন বাবা হবেন অভিভাবক। বাবা না থাকলে দাদা, দাদা না থাকলে পরদাদা। এরপর বড় ভাই→বৈমাত্রেয় ভাই→ভাতিজা→ভাতিজার ছেলে→ভাতিজার নাতি→চাচা→চাচাতো ভাই→চাচাতো ভাইয়ের ছেলে→চাচাতো ভাইয়ের নাতি→বাপের চাচা→বাপের চাচার ছেলে→দাদার চাচা→দাদার চাচার ছেলে…
সিরিয়ালে যদি কোনো পুরুষকেই না পাওয়া যায়, তখন মা হবেন অভিভাবক। এটাই ইসলামের নীতি। এরপরেও যদি পুরুষের কর্তৃত্বকে অস্বীকার করা হয়, কিংবা অতি ইন্টেলেকচুয়াল ভাব ধরে পূর্বসূরি ইমামদেরকে পুরুষতান্ত্রিক বলা হয়, তবে তো সেই অপবাদ খোদ আল্লাহর ওপরেই এসে পড়ে। কারণ, স্বয়ং আল্লাহর ফরমান অনুসারেই পুরুষ তার কর্তৃত্বের জায়গাটা পেয়েছে। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা পুরুষকে বানিয়েছেন ‘কওয়াম’।
এখন কি তবে আল্লাহর ওপরেও অভিযোগ দায়ের করা হবে? (নাউযুবিল্লাহ!!!)
© জাকারিয়া মাসুদ
