পাঁচশত বছর আগের কোনো রাজা-বাদশা কিংবা ক্ষমতাধর কাউকে গালমন্দ করা হলে তার জন্য মন খারাপ করার মতো একজন লোকও আজ খুঁজে পাওয়া যাবে না।
অথচ প্রায় সাড়ে চৌদ্দশত বছর আগে দুনিয়া থেকে চলে যাওয়া একজন মানুষকে নিয়ে কেউ সামান্য বাজে মন্তব্য করলে কোটি কোটি চোখে পানি আসে। হৃদয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। রক্তক্ষরণ হয় মনে।
এটাই তাঁর বিশেষত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব। কারণ তিনি আল্লাহর দূত।
আগেকার রাজা-বাদশা কিংবা অন্য কোনো মনীষীরা এরকম কোনো আদর্শ রেখে যাননি, যা আজও মানুষকে মুক্তির পথ দেখায়। পক্ষান্তরে প্রিয়নবী (সা.) এরকম সুমহান আদর্শ রেখে গেছেন। যুগ যুগ ধরে যা মানুষকে মুগ্ধ ও মোহিত করে রেখেছে। কিয়ামত পর্যন্ত রাখবে ইন-শা-আল্লাহ। এটাই মুসলিমদের রাসূল-প্রেমের কারণ, ইসলাম-বিদ্বেষীদের গাত্রদাহের কারণও এটাই।
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
রসূল (ﷺ) আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) কে ৬ বছর বয়সে বিবাহ করে এবং ৯ বছর বয়সে আম্মাজান এর সাথে সংসার জীবন শুরু করে। সে সময়ে নারীদের এমন বয়সেই বিবাহ হতো,, সে কালে নারীরা এরকম বয়সেই প্রাপ্তবয়স্কা হতো।
রসূল (ﷺ) ও আম্মাজান এর শানে ধৃষ্টতা প্রদর্শনকারী যেহেতু এবার সনাতন ধর্মাবলম্বী, মূলত তাদের পূজনীয়দের দিয়েই ছোট্ট একটা তুলনা পেশ করা হল,
১। রামচন্দ্র যখন সীতাকে বিয়ে করে,,তখন সীতার বয়স ছিল ৬ বছর,, রেফারেন্স ( স্কন্দ পুরাণ, ৩.২.৩০.৮-৯) ও বাল্মিকীর রামায়ণ, অরন্য খন্ড ( ৩.৪৭.৩ -১০),, তারা জয় শ্রী রাম বলে যাদের উপাসনা করে,, তাদের ঈশ্বর ৬ বছরের সীতা কে বিয়ে করে শিশু কামী হলো না।
২। শ্রী কৃষ্ণ যখন রুক্মিণী কে বিয়ে করে,, তখন তার বয়স ছিল ৮ বছর,, রেফারেন্স ( স্কন্দ পুরাণ ৫.৩.১৪২.৮-৭৯)শ্রী কৃষ্ণ যখন রুক্মিণীর সাথে যৌনক্রিয়া শুরু করে,তখন সে পরিপূর্ণ ভাবে বেড়ে উঠিনি এবং যৌনতা সম্পর্কে তার কোনো জ্ঞান ছিল না, ফলে শ্রী কৃষ্ণ যৌনক্রিয়া করাই রুক্মিণী জ্ঞান হারিয়ে ফেলে,, রেফারেন্স ( ব্রাহ্ম, বৈবর্ত পুরাণ কৃষ্ণ জন্ম খন্ড ১১২,১-১০) ,, তাদের ঈশ্বর ৮ বছরের রুক্মিণী কে বিয়ে করে শিশুকামী হলো না।
৩। শিব যখন পার্বতী কে বিয়ে করে, তখন তার বয়স ছিল ৮ বছর রেফারেন্স ( শিব পুরাণ, রন্দ্র সংহিতা পার্বতী খন্ড ৩.১১,১-২) তাদের ঈশ্বর শিশুকামী হলো না।
৪। কয়েক বছর আগের ঘটনা,, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১০ বছর বয়সের মৃণালিনী দেবী কে বিয়ে করে এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ৫ বছরের এক মেয়েকে বিবাহ করে,,যাকে সাহিত্য সম্রাট বলে থাকি।
৫। ১০০ থেকে ২০০ বছর আগে মানুষের বিবাহের গল্প শুনে আসি,, মাত্র ১৩০ বছর আগে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিয়ের সর্বনিম্ন বয়স ছিল ডেনমার্ক - ১২ বছর,,রাশিয়া - ১০ বছর,, ফ্রান্স - ১০ বছর,কানাডা - ১২ বছর, ক্যালোফোর্নিয়া - ১০ বছর,, তার মানে ১৮৮০ - ১৯২০- ২০০৭ সালে মেয়েদের বিবাহের গড় ছিল (১০,১১,১২) বছর, , এটা ২০০/১০০ বছর আগে বিয়ে ঘটনা,, আর রসূল ﷺ তো ১৪০০ বছর আগে বিবাহ করেছেন, তাহলে সে সময়ে বিয়ের গড় কেমন হবে চিন্তা করেন।
এই তথ্য উপাত্তগুলো শুধু তাদের জন্য যারা এখনো সংশয়ে রয়েছে এবং ওদের তথ্যগুলোকে যৌক্তিক মনে করে মৌন সায় দেয়।
একজন নবী ﷺ প্রেমী মুসলমানের জন্য উপরোক্ত একটি তুলনারও প্রয়োজন নেই। অনুসরনীয়ও নয়। বরং পুরো দুনিয়ার জন্য আল্লাহ্র রসূল ﷺ মডেল ও অনুসরনীয়।
যেই সব কুলাঙ্গার দ্বীনের বিষয়ে ধৃষ্টতা দেখায় ওরা সব জেনে বুঝেই শুধু নফসের গোলামি করে ইসলাম বিদ্বেষ রাখে। ওদের বদ সংশ্রব, যুক্তির ফাঁদ ও উপস্থাপনার মোড়কে ধোঁকা খাচ্ছে অনেকেই। হারাচ্ছে নিজের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ "ঈমান"।
রসূল ﷺ এর প্রতিটি আমালকে নির্দ্বিধায় খুশি চিত্তে মেনে নেয়া ঈমানের মৌলিক ভিত্তি।
সংগৃহীত।
