আমরা নিজের পাত্রী খোঁজার সময়, এভাবে ভেবেছি, পাত্রী একজন ভাল লাগবে ব্যাস।
সে দ্বীনদার হবে আর যাকে আমার দেখতে ভালো লাগবে। (আমার কাছে ভাল লাগলেই হলো, সৌন্দর্য্যের সংজ্ঞা আপেক্ষিক)। . কেউ হয়ত ফর্সা না, লম্বা না তবে ছিমছাম গড়নের, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন টিপ টপ থাকে - দ্যাটস এনাফ। অর্থাৎ রিকোয়ারমেন্ট দুইটা - সে সহীহ অর্থে দ্বীনদার (পর্দা ও এন্টিফেমিনিজম সব এর মাঝেই অন্তর্ভুক্ত) আর তাকে দেখতে আমার ভাল লাগবে। আমার আত্মীয় স্বজন (মাহরাম) এর তাকে কেমন লাগল ডাজেন্ট ফ্যাক্ট। . . পাত্রীর বাবা কি করেন না করেন, কোন মাথা ব্যাথা ছিল না। কোন আগ্রহ নেই এসবে।
বাবা না থাকলেও কোন সমস্যা নেই, অনেকে ইয়াতীম মেয়ে বিয়ে করতে চান না, জামাই আদর পাবেন না তাই; অথচ ব্যক্তিগত ভাবে নিজে সব সময় চাইতাম ইয়াতীম বিয়ে করতে (ভাগ্যে মিলেনি, আল্লাহ যেমন চেয়েছেন)।
ইয়াতীমের ক্ষেত্রে এডভান্টেজ হলো, তার বাবার ভূমিকাও স্বামীকে পালন করতে হয়, মায়ের ভূমিকাও। মানে স্বামী ছাড়া তার কেউ নেই, এমন স্বামী খুব করে আগলে রাখবে তার স্ত্রীকে, একদম বাচ্চাদের মত করে আগলে রাখবে, আর স্ত্রীও সব সুখ কেবল স্বামীর কাছেই খুঁজে নেয়। আর ইয়াতীম এর প্রতি সদয় হবার জন্য, আল্লাহ থেকে তো প্রতিদান আছেই। . এমনকি অনেক দ্বীনদার পাত্র ভাইয়েরা, ব্যাংকার বাবার দ্বীনি কন্যাকে বিয়ে করতে চান না, বাবা ব্যাংকার বলে, অথচ এমন ক্ষেত্রে মনে করি, পাত্রী যদি নিজের বাবার পেশা নিয়ে অনুশোচনায় থাকে, তাহলে তাকে বিয়ে করে নেওয়া উচিৎ। এমন পাত্রীকেই বিয়েতে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিৎ।
তাকে স্বামীর হালাল উপার্জনের পরিবেশে তৃপ্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেবার সুযোগ দেওয়া উচিৎ। . এভাবে কুফুর বাহানা দিয়ে, টাকাওয়ালা শ্বশুর খোঁজা মুসলিম কমিউনিটির একটা রোগ হয়ে গিয়েছে। অনেক দ্বীনদার যোগ্য বোনরা এই ফিল্টারিং এ বাদ পরে যাচ্ছে।
পাত্রীর যে বিষয়ে তার নিজের হাত নেই যেমনঃ তার বাবা কি করে, মা কি করে, সে দেখতে কেমন, তার উচ্চতা কী এগুলো তে প্রাধান্য দেওয়া উচিৎ না। আমাদের ভবিষ্যত সন্তান সন্তাদিও কেমন হবে, আল্লাহ তায়ালা তাদের কেমন গড়নে বানাবেন, আমরা জানিনা। . অফওয়ে, তবে পাত্র বা পাত্রীর শরীরের ওজন তার নিজ নিয়ন্ত্রনে, সে কি সুন্নাহ মোতাবেক স্বল্প খেয়ে, শরীর চর্চা করে নিজেকে ফিট, স্মার্ট, স্লিম রেখেছে না কাফিরের মত খেয়ে (এক বর্ণনায় কাফিরের খাওয়ার ধরণ ব্যাখা প্রসঙ্গে হজরত উমর (রাঃ) বলেছিলেন, মুমিন খায় এক পাতে, কাফির খায় দশপাতে) নিজেকে মোটা বানিয়েছে, এটা অবশ্যই তার নিয়ন্ত্রনে।
তাই কোন পাত্র বা পাত্রী, বিয়ের জীবনসাথী নির্বাচনে কেউ স্লিম, ফিট গড়নের কাউকে প্রাধান্য দিলে সেখানে আপত্তি করিনা। (যারা জন্মগত ভাবে একটা অসুখের কারণে মোটা, তারা নিশ্চয় এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত না) . বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রেও তাই, যারা ক্যারিয়ার বা লেখাপড়ার কারণে বিয়ে না করে বয়স বাড়িয়েছে, এমন পা্ত্রীকে বিয়ে করতে মানা করি (যেসব দ্বীনদারভাইয়েরা বিয়ের ব্যাপারে পরামর্শ চান)।
এমন পাত্রীকে ২২ বা ২৫ ক্রস করলেই আর বিয়ের করার দরকার নেই। ওকে থাকতে দিন ওর সার্টিফিকেটকে স্বামী বানিয়েই। অনার্স মাস্টার্স করুক, পারলে পিএইচডি করুক। বিয়ে করে কী হবে ! এত বয়সে বিয়ে জাস্ট একটা ফরমালিটি, একা থাকা সমাজে বেমানান তাই।
তবে যদি এমন কোন পাত্রী থাকে, যে ১৮ বা ২২ বছর বয়সেই বিয়ের জন্য বাসায় বলেছে (বা লজ্জায় বলেনি), আল্লাহকে শুধু দুয়া করেছে কিন্তু দ্বীনদার পাত্র (দ্বীনদার বিল গেটস না) না মেলায় বা বাসা থেকে বিয়ের ব্যাপারে পরিবারের উদাসীনতা কিংবা বাসা থেকে বেদ্বীনি পাত্রের সাথে বিয়ে দিতে চায় বলে বোনটা করেন নি, কিংবা বাসাতে জোর করে পড়াশোনা শেষ করাইছে আর এভাবে বয়স বেড়েছে, ৩২ বা ৩৫ বছর হয়ে গেছে। এসব বোনকে বিয়ে করে নিন, সে আপনার থেকে বয়সে সিনিয়র হলেও। আমাদের অনেক ভাইয়েরা নিজের থেকে ১০ বছরের বড় মেয়েকেই বিয়ে করেছে আলহামদুলিল্লাহ্। . এমন বয়স্কা কাউকে বিয়ে করলেও, অনেক কৃতজ্ঞতা পাবেন তার কাছে, আর আল্লাহ'র কাছে তার করা দুয়া আপনাকে পাবার মাধ্যমে কবুল হয়েছে, দুনিয়াতে কারোর দুয়া কবুলের মাধ্যম হওয়ার থেকে প্রশান্তির আর কী আছে? . . সামারাইজ করি, বিয়ে করবেন কাকে?
যার কাছে আপনার সুকুন মিলবে। আপনার ঈমানী সুকুন, মানসিক সুকুন, শারীরিক সুকুন, আধ্যাত্মিক সুকুন।
যাকে নিশ্চিন্তে সব বলতে পারা যায়, যার সাথে হিসাব করে কথা বলা লাগে না। যে প্রতিযোগী না সহযোগী হবে ইনশাআল্লাহ।
তবে আপনার সুকুন প্রাপ্তির সংজ্ঞা, শরীয়াহ এর আংগিকে হবে। দেখা গেলো বউ বাইরে চাকরি করলে আপনার সুকুন মিলে, তাহলে আপনার সুকুন প্রাপ্তির সংজ্ঞা শরীয়াহ এর সাথে সাংঘর্ষিক হলো।
© শাহ মুহাম্মদ তন্ময়
