প্রিয়তমা অর্ধাঙ্গিনী কে জিজ্ঞেস করলামঃ তুমি মুনাজাতে আমার জন্য কি দোয়া করো ।
তিনিঃ আমি সবসময় দোয়া করি ১) আল্লাহ যেন আপনাকে সদাসর্বদা সুস্থতার সাথে রাখেন । ২) পৃথিবীর সব মেয়েদের থেকে যেন শুধু আমাকেই আপনার সবচেয়ে বেশি সুন্দর লাগে। ৩) আপনার মুখ থেকে যেন কোনদিন দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ বিয়ের কথা না শুনি ।
বিয়ের কিছুদিন পরেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে । ২৩৪ ধারা জারি করা হয়েছে সংসার লাইফে যেন কোনদিন তাঁর কাছে দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ বিয়ের কথা মুখেও না আনি । যদি কোনদিন আমি দ্বিতীয় বিবাহ করে ফেলি, তাহলে সেদিন যেন তাঁর মৃত্যু হয়ে যায়।
যেহেতু তিনি মাদ্রাসায় পড়ুয়া নয় তাই فانكحوا ما طاب لكم من النساء مثنى وثلاث ورباع আয়াত দিয়ে দলীল পেশ করলাম ।
তিনিঃ কোরআনে তো আরো অনেক আয়াত আছে । আরো অনেক বিধিবিধান আছে । আপনারা পুরুষরা এই আয়াতকেই বেশি গুরুত্ব প্রদান করেন ।
আমিঃ ফেতনা ফ্যাসাদের যূগে রাসুল সাঃ এর কোন মৃত সুন্নাহ ( যে সুন্নাত সমাজে প্রচলিত নয়) কে জীবিত করলে একজন শহীদের সাওয়াব দেওয়া হয় । (মেশকাত)
তিনিঃ আমি এতো কিছু বুঝিনা। আপনি কোনদিন আমার মুখের সামনে বিয়ের কথা বলতে পারবেন না।
আমিঃ সুরা তাহরিম আয়াত_ ১ يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ لِمَ تُحَرِّمُ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكَ ۖ تَبْتَغِي مَرْضَاتَ أَزْوَاجِكَ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ হে নবী! আল্লাহ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন, তুমি তা অবৈধ করছ কেন?তুমি তোমার স্ত্রীদের সন্তুষ্টি চাচ্ছ? আর আল্লাহ চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
মূলত আয়াতটি নাযিল হয়েছে একটা ঘটনা কে কেন্দ্র করেই..
করীম (সাঃ) যে জিনিসকে নিজের উপর হারাম করে নিয়েছিলেন তা কি ছিল? যার কারণে মহান আল্লাহ অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ ব্যাপারে একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা রয়েছে, যা সহীহ বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত আছে ।
ঘটনা হল, তিনি যয়নাব বিনতে জাহশ্ (রাঃ)র কাছে কিছুক্ষণ থাকতেন এবং সেখানে মধু পান করতেন। হাফসা এবং আয়েশা (রাযিঃ) স্বাভাবিকতার অধিক সময় তাঁর সেখানে থাকার পথ বন্ধ করার জন্য ফন্দি আঁটলেন যে, তাঁদের কারো কাছে যখন তিনি আসবেন, তখন তাঁরা বলবেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি 'মাগাফীর' খেয়েছেন? আপনার মুখ থেকে 'মাগাফীর'এর গন্ধ আসছে। ('মাগাফীর' এক প্রকার গাছের মিষ্ট আঠা, যা খেলে মুখে এক প্রকার গন্ধ সৃষ্টি হয়।) সুতরাং তাঁরা পরিকল্পনা অনুযায়ী তা-ই করলেন। উত্তরে তিনি বললেন, "আমি তো যয়নাবের ঘরে কেবল মধু পান করেছি। এখন আমি শপথ করছি যে, আর কখনও তা পান করব না।
নোটঃ একটা হালাল বস্তু রাসুল সাঃ নিজের উপর হারাম করে নেওয়ার কারণে আল্লাহ কোরআনে আয়াত নাযিল করেছেন । এর দ্বারা বুঝা যায় "হালাল বস্তু নিজের উপর হারাম করা" চাই সেটা নিজের মাধ্যমে হোক বা অন্য কারো মাধ্যমে, সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
তাহলে দ্বিতীয় তৃতীয় চতুর্থ বিবাহ ও তো ইসলাম হালাল করেছে । স্ত্রী কর্তৃক কেন সেটা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ২৩৪ ধারা জারি করা হবে ?
তিনিঃ মুড অফ 😔
