শরীয়তে নাকি বউ ঘরের কাজ করতে বাধ্য না!
একদা ফাতিমা (রা.) গৃহস্থালীর কাজের চাপ, নিজের হাড়ভাঙা খাটুনি ও কষ্টের কথা নিজের আব্বাজানের কাছে বললেন।
তিনি ছিলেন এমন পিতা যিনি তার কন্যাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসতেন। যাঁর সাথে রাসুল ﷺ তাঁর দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর মিলিত হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছিলেন। যা শুনে তিনি হেসে উঠেছিলেন (রাদিআল্লাহু আনহা)।
তাঁর একার পক্ষে অত্যন্ত কষ্ট হওয়ায় তিনি রাসুল ﷺ এর নিকট কাজে সাহায্যের জন্য একজন খাদেম চাইলেন।
রাসুল ﷺ তাঁকে খাদেম দিলেন না। যেখানে রাসুল ﷺ মদীনায় ইসলামি হুকুমতের প্রধান। তাই এতে কোন সন্দেহ-ই নেই যে তার নিকট অতিরিক্ত খাদেম ছিলো না। এবং ওই দিনও নতুন কয়েকজন গোলাম এসেছিল। এ সত্ত্বেও রাসুল ﷺ তাঁকে খাদেম না দিয়ে নিজ হাতে ঘর-বাড়ির সকল কাজ করার নির্দেশ দিলেন।
উপরন্তু ঘরের কাজ করার অলসতা কাটিয়ে উঠার নিয়ম বলে দিলেন। তিনি তাকে বললেন, ❝যখন তোমরা (আলী ও ফাতিমা) শয়ন করবে তখন ৩৪ বার 'আল্লহু-আকবার' ৩৩ বার ‘সুবহা-নআল্ল-হ' এবং ৩৩ বার ‘আলহামদু লিল্লা-হ’ পড়বে। এটা তোমাদের জন্য খাদেম থেকেও উত্তম হবে।❞
স্বামীর ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যাবতীয় খেদমত করা স্ত্রী হিসেবে নারীর দায়িত্ব ও কর্তব্যর অন্তর্ভুক্ত এটা আমরা সীরাহ থেকেই দেখতে পাই যার সাক্ষ্য দেয় সহিহ হাদিসও।
স্বামী, তার সন্তান এবং পরিবারের হক্ব আদায় করা তার উপর অর্পিত দায়িত্ব। সর্বকাজ নিজের হাতে করা তো ফাতিমা রাদিআল্লাহু আনহারও সুন্নাহ। মোহর হিসেবে মোহরে ফাতেমি চাওয়া বা ফাতেমা রাদিআল্লাহু আনহার জীবদ্দশায় আলী রাদি.-র এক বিয়ে টেনে আনা বোনেরা কেন তার মতো একা হাতে সব কাজ করতে পারবে না? বরং তাদের তো উচিত প্রযুক্তির এই যুগেও যাতা সহ প্রাচীন সব সরঞ্জাম ব্যবহার করা। যেহেতু, নিজেদের জন্য সুবিধাজনক ক্ষেত্রে উনাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন।
ততোধিক আশ্চর্যের কথা হচ্ছে, সাহাবিয়া মহিলাগন ঘরে যেভাবে কাজ করতেন সেভাবে নিজেদের ক্ষেত খামারেও কাজ করতেন।
উম্মুল মুমিনীন খাদিজা রাদিআল্লাহু আনহা তার বিয়ের পর প্রাক্তন স্বামীদের ব্যবসা সহ সকল সম্পদ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাতে হস্তান্তর করে তিনি পুরোদস্তুর গৃহীনি হয়ে গিয়েছিলেন।
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা তাঁর ঘরের যাবতীয় কাজ নিজে করতেন।
❝আটা কুটতেন নিজেই।❞ [বুখারী শরীফ]
❝খামির নিজে বানাতেন। রুটি বানাতেন নিজে। রান্না করতেন নিজেই।❞ [বুখারী, আবূ দাউদ]
❝বিছানা বিছাতেন নিজে।❞ [শামায়েলে তিরমিযী]
❝অযুর পানি নিজেই আনতেন।❞ [মুসনাদে আহমাদঃ৬/৬৮]
❝রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানির জন্য যে উট পাঠাতেন, সেটার দেখাশুনাও নিজেই করতেন।❞ [বুখারী-হজ্জ অধ্যায়]
❝তিনি রাসূলুল্লাহর ﷺ মাথাও আঁচড়ে দিতেন।❞ [বুখারীঃ ই'তিকাফ অধ্যায় ]
❝রাসুল ﷺ এর শরীরে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতেন।❞ [বুখারীঃ হজ্ব অধ্যায়]
❝রাসূলের ﷺ কাপড় ধুয়ে দিতেন।❞ [বুখারীঃ গোসল অধ্যায়]
❝শোয়ার পূর্বে রাসূল ﷺ এর মিসওয়াক ও পানি ঠিক করে দিতেন।❞ [মুসনাদে আহমাদঃ ৬/৫৪].
❝রাসূল ﷺ এর মিসওয়াক পরিষ্কার করে দিতেন।❞ [আবূ দাউদঃ তাহারাত অধ্যায়] . ❝আম্মাজান আয়েশা রাদিআল্লাহু আনহা'র ঘরে কোনো মেহমান এলে মেহমানের আপ্যায়নের কাজটাও তিনিই করতেন।❞ [আবু দাঊদ শরীফ- শিষ্টাচার অধ্যায়]
আমাদের জানা থাকা দরকার, উম্মুল মুমিনীন আম্মাজান আয়েশা (রা.) উম্মতের মধ্যে এত বড় একজন ফক্বীহ, আলেমা হওয়া সত্ত্বেও নিজ হাতে এসব করেছেন। আবার আমরা এটাও জানি তাঁর সারাজীবন যা সমস্ত মুমিন নারীদের জন্য উত্তম আদর্শ। অথচ বাস্তবিক অর্থে সাংসারিক কাজ কর্মের ক্ষেত্রে উনাকে আমরা কতজন আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে পেরেছি?
শারয়ী ওজর থাকলে এবং জীবন পরিচালনার তাগিদে নারী প্রয়োজনে বাইরে পর্দার সাথে কাজ করতে পারবেন, সেটা ভিন্ন বিষয় এবং ভ্যালিড ওজর।
মুসলিম নারীদের মনে রাখা দরকার যে, জান্নাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা প্রাপ্ত খাদিজা রা. আয়েশা রা. ফাতিমা রা. এবং অন্যান্য উম্মুল মুমিনীনগণ, নারী সাহাবিয়াগণ গৃহস্থালি কাজ করেই জান্নাতের সর্দারনী হয়েছেন। সাংসারিক কাজকর্ম খাদেমার উপর ছেড়ে দিয়ে, নিজেরা সো কল্ড ক্যারিয়ারে মনোযোগ দিয়ে তারা জান্নাতি হতে পারেন নি!
ইসলামের বিধান নারীর জন্য নামাজের উত্তম স্থান ঘরের সবচেয়ে ভেতরের ঘরের কোনায়। ফিতনার এই যুগে ফেমিনিজম ও ততোধিক বিষাক্ত দ্বীনি ফেমিনিজম এর ফিতনা হতে নিজেকে বাঁচিয়ে, চূড়ান্ত কামিয়াবির লক্ষ্যে আমাদের বোনদের উচিত উম্মুল মুমিনীনদের ও সাহাবিয়া রাদিআল্লাহু আনহুমাদের আদর্শ অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা।
আল্লাহ তায়ালা বোঝার তৌফিক দান করুক।
প্রকাশ থাকা আবশ্যক যে, মানবজাতির সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হল আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করা। আর ঘরের কাজ করা নারীদের জন্য ইবাদত স্বরূপ। উম্মুল মুমিনীন এবং সাহাবিয়া রাদিআল্লাহু আনহাদের সুন্নাহ স্বরূপ।
❝রাসুল ﷺ ঘরে রান্না করেছেন এমন কোন বর্ণনা কোথাও নেই।
রাসুল ﷺ যেসকল কাজে পরিবারকে সাহায্য করেছেন তা পুরুষসুলভ কাজ ছিল। সেজন্য আমাদের ভালো করে বুঝে নেওয়া দরকার, রান্না-বান্না এবং সন্তান প্রতিপালনের দায়িত্ব একান্তই নারীর। স্বামী সাহায্য করলে সেটা তার একান্ত অভিরুচি। এসব কাজ করা সুন্নাহ তো নয়ই উপরন্তু তিনি শারয়ীভাবে এসব করতে বাধ্যও নন।❞
এতদ আলোচনা পরবর্তীতে এখন প্রশ্ন হচ্ছে,
জান্নাতের সরদারনী যদি, স্বামীর ঘরে যাতা পিষে হাতের ছাল তুলে ফোস্কা ফেলে দিতে পারেন! তাহলে খাদেমা চাওয়ার আমি কে? এরপরেও যদি খাদেমার আশায় আমরা বসে থাকি, তাহলে এই লজ্জা আমরা রাখিবো কোথায়?
©
https://www.facebook.com/101836378862359/posts/172999548412708/?sfnsn=mo
